হাত হারানোর দায়িত্ব কে নেবেন ?

হাত হারানোর দায়িত্ব কে নেবেন ?

মোঃ আফজাজুল ইসলাম গত ২রা নভেম্বর ২০১৩, আনুমানিক রাত ৯টায় গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে লেগুনায় বাসায় যাওয়ার সময় পেছন থেকে বাস ধাক্কা দেওয়ায় তার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। তাকে দ্রুত গাজীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে থেকে পঙ্গু হাসপাতালে নিতে বলে।

পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্স নেওয়ার হয়। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ছিল উত্তরা সেন্ট্রাল হাসপাতালের দালাল যে রোগী দেওয়ার বিনিময়ে হাসপাতাল থেকে কমিশন নেয় (যা আমরা পরে বুঝতে পারি)। ড্রাইভার সুচিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে পঙ্গু হাসপাতালের পরিবর্তে উত্তরা সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এক্সরে করার পর সেখানে কর্মরত ডাক্তার জুনায়েদ বলেন রোগীর হাত ভাঙ্গার পাশাপাশি রগও কেটে গিয়েছে। তাই আধা ঘন্টার মধ্যে অপারেশন না করলে রোগীর হাত কেটে ফেলতে হবে এবং অপারেশনের জন্য তাকে ৭৫ হাজার টাকা (ঔষধ ও অন্যান্য খরচ বাদে) দিতে হবে। আধা ঘন্টা সময় নির্ধারিত করে দেওয়ায় আমরা অন্য কোথাও নেওয়ার কথা ভাবতেও পারিনি। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসাবে পরিচয় দেন। অথচ পরে জানতে পারি তিনি ইন্টারনি ডাক্তার। তিনি রাত ১১ টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপারেশন করে সকাল ৯টায় জানান এখানে আর কিছুই করার নেই। আপনারা হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের ভাসকুলার ইউনিটে নিয়ে যান।

রোগীর হাত বাঁচাতে যখন আমরা পাগল প্রায় তখন তারা অপারেশন, ঔষধ ও অন্যান্য খরচসহ ১ লক্ষ টাকা দাবি করে। আমি ৩৫ হাজার টাকা, ১টি মটর সাইকেল এবং নিজে উপস্থিত থেকে টাকার জামিন হয়ে ব্যাংক খোলার পর টাকা দেব বলে বহু অনুরোধ করি কেবল রোগীর হাত বাঁচানোর জন্য। তারা রোগীকে আটকিয়ে রাখে এবং সব টাকা নগদ পেয়ে রোগীকে যেতে দেয়।

ফলে আমাদের এত দেরি হয়ে যায় যে, হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের দেশের সেরা ডাক্তারগণ দুপুর ১২টায় পরীক্ষা করে বলেন যে, আপনারা অনেক বেশি দেরি করে ফেলেছেন। তারা বলেন যে, ডাক্তার জুনায়েদ আসলে টাকার লোভে অপারেশনের নামে রোগীর অঙ্গহানির ব্যবস্থা করেছে। ডাক্তার জুনায়েদ হাড় জোড়া না দিয়ে রগ মেরামত করেছে (উত্তরা সেন্ট্রাল হাসপাতালের সার্টিফিকেট অনুযায়ী)। অথচ হৃদরোগ হাসপাতালের ডাক্তারদের মতে, আগে হাড় জোড়া দিয়ে পরে রগ জোড়া দিতে হয়। তিনি ভুল চিকিৎসা করেছেন। যে রগ দিয়ে হৃদপিন্ড থেকে রক্ত আসে তিনি শুধু সে রগ বন্ধ করেছেন। রগ কেটে গেলে ৮ ঘন্টার মধ্যে জোড়া না দিলে পচন ধরে এবং উক্ত অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়।

কিন্তু ডাক্তার জুনায়েদ ভুল চিকিৎসা করে ১১ ঘন্টা রোগীকে আটকিয়ে রেখে এমন পরিস্থিতি তৈরী করে যে জীবন বাঁচাতে রোগীর হাত কাঁটতে হয়। অথচ উত্তরা সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডাক্তার জুনায়েদ যদি এমন সংকটাপন্ন রোগীকে ভুল অপারেশন না করে প্রথমে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়ে দিত তবে হয়তো ৩৩ বছর বয়সের এ তরুন মানুষটির হাত কাঁটতে হত না।

চিকিৎসার নামে মানুষের জীবনকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এমন অপ চিকিৎসার আমরা উপযুক্ত বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই যেন ডাক্তার পরিচয়ে কেউ কারো জীবন নিয়ে খেলা করতে না পারে। তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি জোর আবেদন করছি।

58 comments

Leave a Reply