অহনা, একটি ব্রেইন টিউমার এবং আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা

অহনা, একটি ব্রেইন টিউমার এবং আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা

অহনা। পুরো নাম মির্জা অরুণীমা শাহপার। ২০১০ সালের ১২ই জানুয়ারি শীতের এক পড়ন্ত বিকেলে স্কয়ার হসপিটালে এ এই পৃথিবীতে তার আগমন। তিন বছর পূর্ন হবার আগেই তার স্কুলে ভর্তি হওয়া। ১২ই জানুয়ারি ২০১৩ তার ৩ বছর পূর্ণ হলো এবং ১৩ই জানুয়ারি ২০১৩ সে তার স্কুল জীবন শুরু করল ওয়াই ডাব্লিউ সি এ স্কুলে। আরও দশজন শিশুর মতই স্কুল তার অত্যন্ত প্রিয় স্থান হয়ে উঠল। আমার অফিস আর বাসা একই বাড়িতে হবার কারণে প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে বাসায় ঢোকার আগে ঠিক সকাল ১১টায় আমার অফিসের দরজা খুলে প্রথম সম্বোধন ”বাবা”। আমিও ঠিক প্রতিদিন ১১টায় কান পেতে থাকি তার ”বাবা” ডাক শোনার জন্য।

উপসর্গের প্রকাশঃ

পহেলা এপ্রিল ২০১৩ হঠাৎ অহনা অসুস্থ হয়ে পড়ল। কোন কারন ছাড়াই বমি করা শুরু হলো। কিছুই খেতে পারল না দু’দিন। খেলেই বমি, আমার বাসার পাশের গলিতে থাকেন ডা: আবু শামীম, আল হেলাল স্পেশালাইজড হসপিটাল এর সিইও। আমার স্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন। অহনা জন্মের পর কিছুদিন রাতে কান্নাকাটি করত। কাঁদতে কাঁদতে ওর নাভি ফুলে উঠেছিল। তখন তাকে দেখতেন ডা: জাবরুল, স্কয়ার হসপিটালে। একসময় উনি বলেছিলেন ওর হার্নিয়ার সমস্যা এবং অপারেশনের মাধ্যমে এই চিকিৎসা করতে হবে। তখন ড: আবু শামীম একটা স্পেশাল বেল্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ওর হার্নিয়ার সমস্যাটা সমাধান করে দিলেন। তখন থেকেই উনার প্রতি আমার স্ত্রীর আস্থা অপরিসীম। রাত ১১টা /১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আমরা উনার বাসার যেয়ে অহনাকে দেখাতাম। আমাদের এই বিশ্বাসের দামও উনি দিতেন রাত ১১টার পরও আমাদের সময় দিয়ে।

আল হেলাল স্পেশালাইজড হসপিটালঃ

১লা এপ্রিল রাত ১১টায় উনার বাসায় দেখানোর পর ডা: আবু শামীম অহনাকে রাতেই হসপিটালাইজড করতে উপদেশ দিলেন, ওর ডিহাইড্রেশন হবার আশংকায়। আমি স্কয়ার হসপিটালে ভর্তি করাতে চাইলে তিনি বললেন শুধু শুধু স্যালাইন দেবার জন্য স্কয়ারে ভর্তি করানোর দরকার নেই। আমরা রাতেই অহনাকে আল হেলাল স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করালাম। দুদিন অহনা হসপিটালে ছিল। আমার স্ত্রীর অনুরোধে ইলেক্ট্রোলাইট, সি বি সি চেক করা হয়। কোন টেস্টেই নেগেটিভ কিছু পাওয়া যায় নি বিধায় ৪ তারিখ অহনাকে ডিসচার্জ করা হয়। ডিসচার্জ লেটারে ডায়াগনসিস এর জায়গায় (??) চিহ্ন লিখা থাকাতে আমি ডিউটি ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করি। ডিউটি ডাক্তার বললেন ডা: শামীম ব্যাখ্যা করবেন। বাসায় আসার পরও অহনার বমি থেমে থেমে হচ্ছিল। এরপর আরও বেশ কয়েকবার আমরা অহনাকে ডা: আবু শামীম এর বাসায় নিয়ে দেখাই। আমি বার বার ডায়াগনসিস এর কথা জানতে চাই। আমি কয়েকবারই বলেছি আমার মেয়ে দরজার সাথে লেগে এবং পড়ে গিয়ে মাথায় ব্যথা পেয়েছিল। বার বারই আমি কারণ জানতে চাচ্ছিলাম, ডা: আবু শামীম আমাদের বার বারই আশ্বস্ত করছিলেন এটা তেমন কিছুনা, ঠিক হয়ে যাবে বলে। আর ও যা খেতে চায় তাই খেতে দিতে, তা যদি চিপসও হয় তাই।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটালঃ
প্রায় দেড় মাস একই সমস্যা রয়েই গেল। দিন দিন ওর চলাফেরা দুর্বল হতে থাকল আর খাওয়া দাওয়া কমতে থাকল। ১৮ই মে একই সমস্যাটা নিয়ে আমি গেলাম ডাঃ নওশাদ-উন-নবীর কাছে। ওর হিস্ট্রি বললাম, হসপিটালাইজড ছিল, কোন ফাইন্ডিংস ছিল না আর মাথায় ব্যথা পাবার কথা জোর দিয়ে বললাম, সে নতুন স্কুলে যাচ্ছে ব্যথা পেতে পারে তাও বললাম। ডা: নওশাদ-উন-নবী বললেন মাথায় সমস্যা থাকলে তখনই বমি হত। আরও বললেন ওর ভারটিগো/মাইগ্রেন হতে পারে। কোন প্যাঁথলজিকাল টেস্ট করা ছাড়াই তিনি তাকে বমির ঔষধ, কিছু ভিটামিন এবং বমি হলে ”GATORADE” এনার্জি ড্রিংক খাওয়াতে বললেন। আর না খেতে চাওয়ার ব্যাপারটা একইভাবে জোর না করতে বললেন।
দুজন বড় বড় পেডিয়াট্রিক স্পেশালিস্ট এর কাছ থেকে একই ধরনের ”কিছু না” টাইপ এর ডায়াগনসিস পেয়ে আমরা কিছুটা আশ্বস্থ হলাম। কিন্তু অহনা দিন দিন আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। হাঁটা চলা ধীর হচ্ছিল আর খাওয়া দাওয়ার অনীহা বেড়েই চলছিল। ওর জন্য বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন খাবার তৈরী করে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হত।

দুমাস পর রোজা শুরু হলো। ঈদের দু তিন দিন আগে হঠাৎ সে আমাকে বলল, ”আব্বু, মাথা ব্যথা করে।” আমি চারিদিকে জ্বর/ফ্লু হচ্ছে ভেবে নাপা খাওয়াই। এর পর ওর হাঁটা চলার ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিল। আমার স্ত্রী ডাক্তারকে দেখাবে বলে ওর হাঁটা ভিডিও করল। তারপর ঈদের শেষে ১২ আগষ্ট আবার ডা: নওশাদ-উন-নবী কে দেখাই। এবার অন্যান্য উপসর্গ ছাড়াও স্পেসিফিক তিনটা উপসর্গ (১) মাথা ব্যথা, (২) হাটা চলার অসুবিধা, (৩) বমি-এর কথা উল্লেখ করি। এবারও ডা: নওশাদ বললেন ওর ভারটিগো থাকতে পারে বা মাইগ্রেন থেকেও হতে পারে। কিছু ঔষুধ প্রেস্ক্রাইব করে ২ দিন পর আসতে বললেন। ওর ইলেক্ট্রোলাইট ও সি বি সি চেক করতে বললেন। এবারও চেক আপ এ কোন গড়মিল পাওয়া গেল না। কিন্তু এই দুই দিনে তার শারিরীক অবস্থা আরও নাজুক হল। ঘাড় শক্ত হয়ে গেল। মাথা ব্যথার কথা ও বার বার বলতে লাগল। ১৪ই আগষ্ট সকালে আমরা দেরি না করে গুলশান ল্যাবএইড এ ডা: নওশাদ-উন-নবী কে দেখালাম, উনি আমার মেয়েকে দেখে বললেন কিছু ঔষধ চালিয়ে যেতে এবং অবস্থার অবনতি হলে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করতে। সেদিন ছিল হরতাল। নিচে নেমে একটা সিএনজি নিয়ে পাশেই একটা ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে থামলাম, সেখানেই সে আবার বমি করা শুরু করল। আমি আর আমার স্ত্রী দেরী না করে সোজা ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটালে ধানমন্ডিতে চলে যাই এবং সাড়ে ১১টায় ওকে আই পি ডি তে ভর্তি করাই। বেলা ১টায় একজন ডিউটি ডাক্তার এসে চেক করে দেখে অহনা দাঁড়াতেই পারছে না। তখন বলল ওর একটা এম আর আই করতে হবে।

বেলা ৫টায় ওর এম আর আই শুরু হয়। এম আর আই আর সি টি স্ক্যান করে ৬টায় ডিউটি ডাক্তার আমাকে জানায় ওর ব্রেইনে একটা টিউমার আছে এবং এটা বেশ খারাপ অবস্থায় পৌঁছে গেছে। (Diagnosis: Medulla Blastoma/Ependymoma) আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ওর উপসর্গগুলো প্রকাশ করার প্রথম দিন থেকে আমি দুজন স্পেশালিস্টের কাছে আমার মেয়েকে দেখালাম আর সাড়ে চার মাস পর বিষয়টি জানা গেল।

আমি সাথে সাথেই ডা: নওশাদ-উন-নবী এর চেম্বারে গেলাম এবং বললাম। উনি আমাকে বললেন, সেদিনই (১২ আগষ্ট) উনার কাছে মনে হচ্ছিল, অহনার চোখের মণি দুটো পেন্ডুলাম এর মত দুলছিল। যাই হোক, তিনি বললেন এই কেস এখন উনার নয়, বিষয়টি এখন নিউরোলজিস্ট দেখবেন।

সন্ধ্যা সাতটায় ডা: মিজানুর রহমান (নিউরোলজিস্ট) এসে আমার মেয়েকে দেখে বললেন ওর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। জরুরী ভিত্তিতে ওর ব্রেইনে আটকে পড়া CSF রিলিজ করার জন্য VP Shunt operation with tumor removal না করালে প্রথমত সে অন্ধ হয়ে যাবে এবং মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। তিনি নিউরোসার্জন ডা: জিল্লুর রহমানকে দেখাতে বললেন যিনি একই ভবনের মেজানাইন ফ্লোরে বসেন।

আমরা ডা: জিল্লুর রহমানের চেম্বারে ডিউটি ডাক্তার সহ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় যাই। উনাকে সব বিস্তারিত বলার পর উনি বললেন আমি আসছি। এরপর আমার বাবা সহ আমি যাই, আমার আরেক ভাই ডা: কামরুল যিনি কার্ডিয়াক ইনস্টিটিউট এর ডাক্তার, তিনি সহ যাই এবং ডিউটি ডাক্তার দুজন আরও দুবার যান।সাড়ে ৩ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় ডা: জিল্লুর অহনাকে দেখেন এবং আমাদের পাশে ডিউটি ডাক্তারের রুমে নিয়ে বলেন অহনাকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করতে। কারন তাদের ”স্পেশালাইজড” হসপিটালে ”PICU(Pediatric Intensive Care Unit) এর সুবিধা নাই। প্রথমত তিনি এখানে এই অপারেশন করতে পারবেন না এবং অহনার অবস্থা এতই নাজুক যে নরমাল কেবিনে রাতে রাখার মত ছিল না।

সকাল ১১টায় আমি আমার মেয়েকে ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করি আর রাত সাড়ে ১১টায় আমাকে জানানো হয় এই স্পেশালাইজড হসপিটালে এ PICU সেটআপ নাই এবং তাকে অন্য কোন হসপিটালে স্থানান্তর করতে হবে।

এত রাতে কোথায় নিব জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বললেন এই রকম অবস্থায় তারা সেন্ট্রাল হসপিটাল এ রেফার করেন। আমি আমার ভাইকে সেন্ট্রাল এ পাঠালাম। তারা বললেন সেখানেও PICU সেটআপ নাই। আমি ফোনে সেখানকার একজন চিকিৎসককে ব্যাপারটা জিজ্ঞাসা করাতে বলল তাদের মধ্যে একটা আভ্যন্তরীণ এগ্রিমেন্ট আছে। ল্যাব এইড এ ICU সংকট হলে সেন্ট্রাল সেই ব্যাকআপ টা দেয়। কিন্তু PICU তাদেরও নেই। সমাধান জিজ্ঞাসা করাতে বললেন এই অবস্থায় তাকে ICU তে রাখতে হবে যা বয়স্কদের জন্য তৈরী।
এমতাবস্থায় ল্যাব এইড এর ডিউটি ডাক্তাররা আমাদের পরামর্শ দিলেন স্কয়ার এ নিয়ে যেতে। সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত সোয়া ১২টায় আমরা স্কয়ার এর জরুরী বিভাগে পৌঁছাই। ল্যাব এইড থেকে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে অহনার একটা কনভালশন হলো।

স্কয়ার হসপিটালঃ

স্কয়ার এর জরুরী বিভাগে এ কর্মরত ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করল। আমি অহনাকে ভর্তি করার আনুসাঙ্গিকতা সারলাম। অহনাকে পরীক্ষা করলেন ডাক্তার মামুন। আমরা তাকে ডিসচার্জ লেটার দেখালাম যেখানে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়া ছিল VP Shunt operation with tumor removal । উনি বললেন রোগী এখন আমাদের অধীনে। আমরা সিদ্ধান্ত নিব কি করতে হবে। কেউ বললেই আমরা অপারেশন করব না বা কেউ না করলেও আমরা তা শুনতে বাধ্য না। ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যাদি প্রদান এবং টাকা পয়সা জমা দেয়ার পর অহনাকে জরুরী বিভাগ থেকে PICU তে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন সকাল ৯টায় নিউরোসার্জন কনসালটেন্ট ডাঃ পার্থ প্রতীম বিষ্ণু ভিজিটে আসেন। আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে PICU এর ভিতরে ডাকেন। সকাল ৯টায় উনি বললেন জরুরী ভিত্তিতে VP Shunt operation করতে হবে। একই নির্দেশনার পুনরাবৃত্তি – মাঝ থেকে অসম্ভব মূল্যবান ১৬টি ঘন্টা আমার মেয়ের জীবন থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। যখন প্রতিটা সেকেন্ড আমরা গুনছি আর আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা করছি।

যাই হোক আমি আমার মেয়ের পাশে বসে ছিলাম। তখনও সে কনশাস। আমার স্ত্রী যখন জিজ্ঞাসা করল কেমন আছ মা? সে উত্তর দিল অনেক যন্ত্রনা নিয়ে ”ভাল আছি।” তখন একজন তরুণ ডাক্তার আমার সম্মতি নিতে আসলেন অপারেশনের জন্য। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে সার্জন অপারেশন করবেন তিনি কি পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জন কিনা। খুবই বিরক্তি সহকারে সেই তরুণ উত্তর দিল ”সার্জন তো সার্জনই, পেডিয়াট্রিক আর এ্যাডাল্ট কি?” আমি তখন হতবাক হবার শক্তিও হারিয়ে ফেলি।

আধ ঘন্টার মধ্যে অহনাকে OT তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু OT থেকে বের হয়ে বললেন অপারেশন সাক্সেসফুল হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার মেয়েকে আমরা দেখতে পারব। বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও যখন দেখতে পেলাম না তখন আবার ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু কে তাগাদা দেয়াতে তিনি আমাকে post operative এ নিয়ে অহনাকে দেখায়। তখন দেখে মনে হলো তার জ্ঞান কিছুটা ফিরছে। ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু বলল ”She will be alright” বলে ওকে ওর পিঠ চাপড়ে দিলেন।

কোমাঃ

সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় PICU থেকে আমাকে, আমার স্ত্রীকে এবং আমার বাবাকে জরুরী ভিত্তিতে ডাকা হলো। ভিতরে নিয়ে অহনাকে দেখালো। দেখি সে অজ্ঞান এবং ভেনটিলেশন সাপোর্টে। ড: বিষ্ণু বললেন যে সে তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। ব্যাথা ছাড়া আর কোন কিছুতে সে সাড়া দিচ্ছে না। অবস্থাটা আশঙ্কাজনক। আমরা এর কারন জিজ্ঞাসা করাতে ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু বলল এত বড় টিউমারের ক্ষেত্রে এরকম হতে পারে। আমরা যখন জিজ্ঞাসাবাদ করালাম যে – VP Shunt Operation এর পর তো ওর সেন্স ফিরে আসার কথা যতটুকু আমরা এরই মধ্যে অন্যান্য নিউরোলজিস্ট এবং নিউরোসার্জন এর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু এর কোন সরাসরি উত্তর দেননি। উনি খুবই অশোভন ভঙ্গিতে বললেন এই ধরনের কেসে এমনটি হতেই পারে। এরপর করনীয় কি জিজ্ঞেস করাতে বললেন পরবর্তী ১৮ই আগস্ট(তিন দিন পর) তারা অহনার Tumor Removal Operation করবেন বলে স্থির করেছেন। Tumor Removal এর পর অহনার জ্ঞান ফিরবে কিনা জিজ্ঞেস করাতে তিনি বলেন ওর জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।

এইরকম অপ্রত্যাশিত এবং অরক্ষিত অবস্থায় আমরা বেশ কয়েকবার ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণুর কাছ থেকে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কারভাবে জানার চেষ্টা করি। ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু আমাদের জিজ্ঞাসার প্রতিউত্তরে যথেষ্ট অসদাচরন করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গভীরে জানার চেষ্টা করায় এক পর্যায়ে বলেন “আমাকে নিউরোলজি শেখাবেন না”। যখন আমরা বললাম যে আমাদের কোন আত্মীয় বা মনোনিত নিউরোসার্জনকে উনার সাথে টিম এ অন্তর্ভুক্ত করানো যাবে কিনা – ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু তখন বললেন, “In that case I will not perform the operation”. তখন আমরা বাধ্য হয়ে কাস্টমার কেয়ার এ উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। তাছাড়াও PICU থেকে কোন যথাযথ ব্রিফিং না দেয়া ও ডাক্তারদের পেছন পেছন ছুটে অহনার অবস্থা জানার চেষ্টা করার অভিজ্ঞতা থেকেও কাস্টমার কেয়ার এ অভিযোগ করি।

এরকম অসহায় অবস্থায় আমরা চেষ্টা করি শহরের মান্যগন্য কয়েকজন নিউরোসার্জনকে এনে আমার মেয়েকে দেখানোর শুধুমাত্র প্রকৃত অবস্থাটা জানার জন্যে। Metropoliton এর ডা: আফজাল, Ibn Sina এর ড: এহসানুল হক প্রমূখ, বিভিন্নভাবে তাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করি। আমাদের বিনীত অনুরোধ ছিল, আমার ভাই হিসেবে, বন্ধু হিসেবে যে কোন পরিচয়ে আসুক, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে আমার মৃত্যুপথগামী সাড়ে তিন বছরের মেয়েটাকে দেখতে এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা কেউই আসলেন না।

দেশের বাইরে নেয়াতেও কমিশন ব্যবসাঃ

উপায়ন্তর না দেখে আমরা তাকে দেশের বাইরে স্থানান্তরের কথা চিন্তা করি। আমি ডা: নওশাদকে ফোনে জিজ্ঞাসা করাতে উনি তার বন্ধু ডা: নিয়াজ এর কথা রেফার করেন। ইতিমধ্যে আমরা নিজেরাই ওর প্রথম এম আর আই এর সফট কপি সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে পাঠাই। যখন আমি ডা: নিয়াজ এর সাথে কথা বলি এবং মেয়ের অবস্থাটা তুলে ধরি তখন তিনি আমাকে আস্বস্ত করেন সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা উনি করছেন। এরপর আমাকে তিনি NUH এর একটা রিপ্লাই ই-মেইল ও দেখালেন। তবে তিনি আমাদের সরাসরি NUH সাথে প্রাথমিক যোগাযোগের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সহজভাবে নিলেন না। আমরা এরই মধ্যে ১৬ই আগস্টের জন্য এয়ার এম্বুল্যান্স চার্টার করে ফেলেছি। তখন এয়ার এম্বুল্যান্স এর এভিয়েশন ডাক্তার এবং ইমারজেন্সি প্যারামেডিক ঢাকাতেই ছিলেন। তারা এসে আমার মেয়েকে স্কয়ার এর আই সি ইউ তে দেখে যান। সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের যাবার কথা নির্ধারন করি। কিন্তু যখন ওরা NUH এ যোগাযোগ করে, তখন তারা তাদের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাই না করার পরামর্শ দেন। আমি তখন আবার ডা: নিয়াজ এর সাথে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি আমার ফোন রিসিভ করেন নাই। আমার মেয়ের নাক দিয়ে তখন রক্ত বের হচ্ছে। তখন এয়ার এ্যাম্বুলেন্স এর ডাক্তার আমাদের জানান যে আমার মেয়ের অবস্থা বেশ আশঙ্কজনক। আমরা চাইলে তাকে ব্যাংকক ট্র্যান্সফার করতে পারি “সামিতিভেজ শ্রীনাকারিন চিলড্রেন হসপিটাল” এ। সেটা অল্প সময়ে ফ্লাই করা সম্ভব এবং সব মিলিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে সাশ্রয়ী হবে কিন্তু সেবার মান প্রায় একই।

যেহেতু আমরা স্কয়ার থেকে কোন সঠিক এবং নিভরযোগ্য তথ্য পাচ্ছিলাম না তাই আস্থা না রাখতে পেরে আমরা ১৭ তারিখ বিকালে ব্যাংকক ফ্লাই করি। এখানে উল্লেক্ষ, আমি যখন স্কয়ারের একাউন্টস এ গিয়ে বিল পরিশোধ করি তখন একাউন্টস থেকে আমাকে বলল “আমাদের ই তো এয়ার এ্যাম্বুলেন্স ছিল “। আমদের এ পর্যন্ত কোন দিন কোন কারণে এ্যাম্বুলেন্সই জোগাড় করার অভিজ্ঞতাই হয় নাই, আর সেখানে এক দিনে এয়ার এ্যাম্বুলেন্স চার্টার করতে হয়েছে। অহনাকে দেশের বাহিরে স্থানান্তরের কথা স্কয়ারের ডাক্তারদের ১৫ তারিখেই জানানো হয়েছিল। একাউন্টস কর্মকর্তার কথা শুনে মনে হোল তিনি মনে মনে বলছেন “যাঃ ব্যবসাটা ছুটে গেলো”। স্কয়ার হাসপাতাল এর মাইন্ডসেট যদি সত্যিই স্বাস্থ্য সেবা হয়ে থাকতো তবে প্রথম দিনই তাঁরা তাদের অপারগতা স্বীকার করে অহনাকে বাহিরে পাঠানোর ব্যবস্থা করত বলে আমার বিশ্বাস। অথচ তাদের ওয়েব পেজ এ সহযোগী হাসপাতাল হিসাবে বেশ ফলাও করে লিখা আছে ব্যাংকক হাসপাতাল সহ আরও অনেক নামকরা হাসপাতাল এর নাম।

সামিতিভেজ শ্রীনাকারিন চিলড্রেন হসপিটাল, ব্যাংককঃ

ব্যাংকক সময় রাত ১০.৩০ টায় আমরা এয়ারপোর্ট এ অবতরন করি এবং আমাদের নামিয়েই ওরা আমার মেয়েকে আগেই হাসপাতালে এ পাঠিয়ে দেয়। আমরা ইমিগ্রেশন শেষ করে হাসপাতালে এ ১১.৩০ টায় পৌঁছাই। অহনা আমাদের আরও ৩০ মিনিট আগে সেখানে পৌঁছে। তখন PICU তে তাদের নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট এবং অন্যান্য ডাক্তার সবাই উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে ওকে Full life support এ রেখেই সিটি স্ক্যান করে তাদের টিম নিজেদের মাঝে আলোচনা করে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। এখানে উল্লেখ্য স্কয়ার হসপিটালে VP Shunt অপারেশন এর পর থেকে আড়াই দিনে পোস্ট অপারেটিভ অবস্থা জানার জন্যে একবারও CT Scan/MRI করে নাই।

নিউরোসার্জন আমাদের সম্পূর্ন সঙ্কট অবস্থাটা ব্যাখ্যা করে বললেন – ”তোমরা যে MRI আমাদেরকে পাঠিয়েছিলে এবং এখন যে সিটি স্ক্যান হল তা অনেকটা ভিন্ন। এরই মধ্যে অহনার টিউমার রাপচার হয়ে গেছে এবং সে ব্রেইন হেমোরেজ এ দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছে – ৪৮ ঘন্টার কম নয়। “There is a slim chance to save her, but slim chance is a chance and better than no chance।” আমাদের সম্মতি চাইতেই আমরা ওদের হাতে আমার মেয়েকে সঁপে দিলাম আল্লাহর নাম নিয়ে। তারা আমাদের একটা রুমে রেস্ট নেবার ব্যবস্থা করে বলল সমস্ত কিছু রেডি হলে কল করবে। রাত ৩.৩০ টা পর্যন্ত কোন কল না আসায় আমরা নিজেরাই আবার ওদের কাছে গেলাম। তখন জানতে পারলাম আমরা আসার সাথে সাথেই অপারেশন শুরু হয়েছে এবং আরও প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা সময় লাগবে। অপারেশন শেষ হলে আমাদের ডাকা হবে। সকাল ৭.৩০ মিনিটে তারা আমাদেরকে ডাকল। নিউরোসার্জন আমাদেরকে অহনার টিউমার টা দেখিয়ে বলল ৯৯% টিউমার ওরা ফেলে দিতে পেরেছে টিউমার বেড টা ছাড়া। তবে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ওকে বাচানো। কারন ওর হেমোরেজটা এত বেশি যে ব্রেইন এর ভেতরে ভেতরে রক্ত জমাট হয়ে আছে। ঘন্টা ছয়েক পরেই অহনার জ্ঞান ফিরে আসল এবং আমাদের ডেকে দেখালো। তবে তখনও সে ventilation এ, আমাদের দেখে মনে হল অহনা আমাদের চিনতে পারছে।

বিকাল থেকেই অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল। ওর সারা শরীর convulsion এর কারনে শক্ত হয়ে আছে। শরীর কোঁকড়ানো শুরু করল। চেহারার এক্সপ্রেশন চলে গেল। ওর ব্রেইন থেকে EVD লাগানো এবং discharged CSF একদম লাল অর্থাৎ রক্ত মেশানো। সন্ধ্যা থেকে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং শুরু হল। নিউরোলজিস্ট ওর তখনকার অবস্থ্যা ব্যাখ্যা করল।

প্রথমত ওর টিউমার যেটা কিনা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। দ্বিতীয়ত ওর ব্রেইন হেমরেজ যেটা কিনা তার future quality of life নষ্ট করে দিতে পারে। সম্ভাবনাগুলো পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অহনার বেঁচেং থাকা।

৫ দিন পর অহনার ventilation খুলে দিয়ে normal breathing এর টেস্ট করা শুরু হলো। ওদের নিউরোলজিস্ট আমাদের জানালো যে এই ধরনের কেস এ – যে অবস্থায় আমরা অহনাকে নিয়ে গেছি, বেশীরভাগ রোগী অপারেশন টেবিলে মৃত্যু বরণ করে। আর যারা বেঁচে থাকে তাদের ventilation খোলা যায় না। অহনার ventilation খোলাটা একটা অত্যাশ্চর্য ঘটনা।

এরই মধ্যে ওর বিভিন্নমুখী চিকিৎসা শুরু হল – ক্রিটিকাল কেয়ার ডাক্তার, নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, nutritionist , চক্ষুবিশেষজ্ঞ, দন্তচিকিৎসক , ফিজিওথেরাপিস্ট, যখন যার প্রয়োজন এবং পুরো চিকিৎসাটাই সম্মিলিত ভাবে কাজ শুরু করল। ৯ সেপ্টেম্বর ওর প্রথম MRI করা হল পোস্ট অপারেটিভ এর জন্যে। এরই মধ্যে অনেকবার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তখনই আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি অহনার পরিণতির কথা। ওর ব্রেইন হেমরেজ ওকে “ভেজিটেটিভ স্টেট” এ নিয়ে গেছে। ওর ৬০% ব্রেইন নষ্ট হয়ে গেছে যার রিকভারি এর আশা প্রায় শূন্য। সে দৃষ্টিহীন, বাকহীন, চলতশক্তিহীন, খেতে বা কিছু গিলতে পারে না, কোন অনুভুতি কাজ করছে না। আমাদের সার্জন বললো ব্রেইন হেমরেজ এর রিকভারি করার গোল্ডেন টাইম হল ৬ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা করা। যেহেতু অহনার হেমরেজ এর স্থায়িত্ব সম্ভবত ৪৮ ঘন্টার বেশী, তারা তার প্রগ্নোসিস সম্মন্ধে মোটেই ভাল বলতে পারছেন না। তবে সব সময়ই আমাদের উজ্জিবীত করার চেষ্টা করছিল miracle may happen বলে। কারন সে এখনও শিশু। শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই মিরাকাল ঘটে এবং তারা তার ব্রেইন এর অবশিষ্ট অংশ টুকুর ”brain plasticity” এর উপর ভরসা করছিল।

অহনা প্রায় দেড় মাস PICU তে ছিল। PICU থেকে বের করে স্পেশাল কেয়ার কেবিন এ দিল। তার টিউমারটা ম্যালিগন্যান্ট টাইপের ছিল। আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সেটা অন্য কোথাও ছড়ায় নাই। ওর রেডিওথেরাপি শুরু হল, রিভার্স প্রোটোকলে এ স্পাইনাল কর্ড থেকে শুরু করে টিউমার বেড পর্যন্ত, সিভিয়ার ব্রেইন হেমরেজ এর কারণে। স্পাইনাল কর্ড এবং টিউমার বেড এ থেরাপি দেওয়ার পর আবার MRI করানো হলো। ডাক্তাররা অনেক আশা করছিলেন যদি ব্রেইন ইঞ্জুরি কিছুটা রিকভার করে। কিন্তু MRI রিপোর্ট আমাদের হতাশ করে। ওর ব্রেইন সেলগুলো মারা যাচ্ছিল। ফলে পুরো ব্রেইন এর থেরাপি আর করা গেল না। পুরো ব্রেইন এর রেডিওথেরাপি না করতে পারার কারণে নতুন টিউমার এর রিকারেন্স এর সম্ভাবনা অনেক বেশি রয়ে গেলো বলে রেডিওলজিস্ট আমাদের জানালেন। শুধু টিউমার বেড এ থেরাপি শেষ করে আমরা দেশে চলে আসলাম।
তাদের সিন্সিয়ারিটিঃ

আমরা প্রায় ৪ মাস ব্যাংককে ছিলাম। খুব কাছ থেকে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি প্রতিটি পদক্ষেপ যেভাবে ওরা অহনাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছে। এক একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার/প্রফেসর আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন অহনার অবস্থার ব্যাপারে। কোন ব্যাপার নিশ্চিত করে কিছু বলার আগে ওরা নিজেরা নিশ্চিত হয়েছে। যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং আমাদের সম্মতি সাপেক্ষে চিকিৎসা করেছেন। আমাদের মেয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদের টিকে থাকার জন্য মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হই তখন আমার চিকিৎসা প্রদান করা সহ যেভাবে চিকিৎসা প্রদান করা প্রয়োজন তার সর্বাত্মক চেষ্টা তারা করেছে। ভাবতে অবাক লাগে আমাদের দু দেশের মাঝে ফ্লাই টাইম দূরত্ব মাত্র ২ ঘণ্টা।
এই সময়ে আমি ডাক্তারদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে বেশকিছু গুরূত্বপূর্ন তথ্য বিশ্লেষন করি। আমার মেয়ের এই টিউমার এর উপসর্গ দেখা দেয়ার প্রথম দিন থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের স্মরনাপন্ন হই এবং যখন আমি ১ এপ্রিল থেকে ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত সময়টা বিশ্লেষন করি তখন বুঝতে পারি পুরোটা সময় আমার মেয়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে। পরবর্তীতে স্কয়ার হাসপাতাল এ অহনার VP Shunt অপারেশন এ যে Shunt টি ব্যবহার করা হয়েছিল তা Fixed opening pressure এবং MRI non compitable shunt ছিল। অহনার মত কেস এ ওর অসংখ্যবার MRI করবার প্রয়োজন থাকে এবং VP Shunt এর opening pressure রিসেট করবার প্রয়োজনীয়তা থাকে। ফলে এসব ক্ষেত্রে Programable VP Shunt ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পুরোটা বিষয় সম্পর্কে বা কি ধরনের Shunt ব্যবহার করা হচ্ছে স্কয়ার হাসপাতাল আমাদের সাথে এ বিষয়ে কোন রকম পরামর্শ করে নাই।

আমাদের কোন অনুশোচনা নাই;

দেশে আসার পর আমি একজন একজন করে প্রতিটি চিকিৎসকের সাথে কথা বলি আমার মেয়ের ভুল চিকিৎসার ব্যাপারে। খুবই আশ্চর্যের বিষয় তাঁরা আমার মেয়ের জন্য সিম্প্যাথি প্রকাশ করলেন কিন্তু একজন চিকিৎসকও তাদের কৃতকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করল না। বিশ্বাস করতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল এই পেশাজীবীদের আমরা কিরকম সম্মান জানাই এবং কিভাবে ভিক্ষুকদের মত তাদের দ্বারস্থ হই আমাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার শর্তে যদি আমাদের নিকট আত্মীয় বা নিজেরা জরাগ্রস্থ হই। অথচ এই মহান কর্মের পেশাজীবিদের প্রায়শই স্থান দেই মহান আল্লাহ তা’আলার পরেই – দ্বিতীয় ঈশ্বর এর অবয়বে।

আমার মেয়ের চিকিৎসকদের সাথে আমার আলোচনার উল্লেখযোগ্য অংশগুলোঃ

ডা: নওশাদ-উন-নবী :

ডা: নওশাদ-উন-নবীকে যখন আমার মেয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে তার অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার কথা বলি, তিনি খুব সুন্দর ভাষায় তা অস্বীকার করেন। আমরা যখন মে-মাসে উনাকে প্রথম দেখাই তখন ১লা এপ্রিল থেকে উনাকে দেখানো পর্যন্ত অহনার পূর্ববতী চিকিৎসা এবং তার অসুবিধার কথাগুলো বলি। এই সময়টুকুতে তার পূর্ববর্তী চিকিৎসক ডা: আবু শামীম এর মাধ্যমে কোন ডায়াগনসিস না পাওয়া এবং একইভাবে আমাদের উদ্বেগগুলোর কথা জানাই এবং সাথে সাথে তার মাথায় ব্যাথা পাওয়ার কথাও জানাই। তিনি কোন রকম পরীক্ষণ ছাড়াই বললেন ভারটিগো হতে পারে, মাইগ্রেন থেকে হতে পারে এবং খাওয়াদাওয়া না করার জন্য চিন্তা না করতে বললেন। যখন ১২ই আগষ্ট সুনির্দিষ্ট উপসর্গ/অভিযোগ নিয়ে গেলাম – মাথা ব্যাথা, চলাফেরায় অসুবিধা(attacsia) এবং বমি তখনও তিনি ভারটিগো এর কথা বললেন। তিনি ইলেক্ট্রোলাইট ও সি বি সি চেক করতে দিয়ে ২ দিন পর আসতে বললেন। ১৪ তারিখ সকালে যখন অহনার ঘাড়ের stiffness বেড়ে গেল তখনও তিনি বললেন ভারটিগো হতে পারে। তখন আমার মেয়ে নিজে বলছে যে তার মাথা ব্যাথা করছে। তখনও তিনি বোঝেন নি আমার মেয়ের কেসটা কতটা জটিল। কিছু ঔষধ প্রেস্ক্রাইব করে পরামর্শ তে লিখলেন অবস্থা আরও খারাপ হলে ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করাতে।

আমি যখন ডা: নওশাদ-উন-নবীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই তিনটি উপসর্গ লিখে ইন্টারনেট এ সার্চ দিলে সম্ভাব্য ডায়াগনসিস রূপে প্রথমেই আসে ব্রেইন টিউমার এবং যখন উনার টেস্ট এর মাধ্যমে কোন রকম ডায়াগনসিস করা গেল না তখন কেন তিনি বুঝলেন না যে এটি নিউরোলজিকাল কেস এবং কেন তিনি বার বার ভারটিগো’র কথা বললেন। প্রথমত তিনি উত্তর দিলেন নিউরোলজিকাল কোন ফাইন্ডিংস তিনি পান নি এবং “He has the right to say so” । যখন আমি বললাম ওর হাঁটা চলার অসুবিধা(attacsia) এর ভিডিও আমার কাছে আছে তখন উনি বললেন ”থাকতে পারে কিন্তু আমি কোন findings পাই নি। অথচ “ভারটিগো” এর বাংলা মাথা ঘোরানো এবং একবারের জন্যেও তা আমরা উল্লেখ করি নাই যে ওর মাথা ঘোরাচ্ছে। তদুপরি ভারটিগো’র ডায়াগনসিস নিশ্চিত করতেও সিটি স্ক্যান বা এম আর আই করা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করলেন যে অন্যদের তুলনায় বরং তাড়াতাড়ি – মাত্র ২ দিনে তিনি ডায়াগনসিস করেছেন। আমি অহনার এই কেস নিয়ে উনার সাথে প্রথম ১৮ই মে দেখা করি। ১ এপ্রিল থেকে তার উপসর্গ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, কোন রকম উন্নতি না হওয়া থেকে আমার সন্দেহ, সবকিছু মিলিয়ে ১৪ই আগস্ট বিকাল পর্যন্ত তিন মাস ১৪ দিনের ইতিহাস জানানোর পরও তিনি তার ভাষ্যমতে ২ দিনেই ডায়াগনসিস করেছেন।

তারপরের প্রশ্ন ছিল কেন তিনি ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হসপিটালে ভর্তি করাতে বললেন যেখানে আমার বাচ্চার চিকিৎসা করাবার মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। নিউরোলজিস্টকে দেখানোর আগেই ১৪ তারিখ বিকালে আমি ডা: নওশাদ-উন-নবীকে এম আর আই রিপোর্ট দেখাই। কেন তিনি তখনও বললেন তা আমার মেয়েকে সেখান থেকে অন্য কোথাও সরাতে? তিনি উদাহরন দিলেন যে ল্যাব এইড এ অনেক জটিল জটিল অপারেশন অহরহ হচ্ছে। সুতরাং উনি না করবেন কেন। অথচ আমার মেয়েকে আমি রাত ১২টায় সেখান থেকে স্কয়ার এ ভর্তি করাই কারন ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হসপিটালে এ PICU সাপোর্ট নেই।

ডা: জিল্লুর রহমান:

ডা: জিল্লুর রহমানকে যখন আমি জিজ্ঞাসা করি ডিউটি ডাক্তার ২জন সহ ৬ জন যখন আপনাকে আমার মেয়েকে দেখার অনুরোধ করি আপনারই সহকর্মী ডা: মিজানুর রহমানের পরামর্শে – তা সত্বেও কেন আপনি ৩টি ফ্লোর পার করতে ৪ ঘন্টা সময় নিলেন। প্রথমত, তিনি উত্তর দিলেন তিনি আউটডোর রোগী দেখছিলেন। আউটডোর রোগী না দেখে তিনি যেতে পারেন না। আমি যখন উত্তর দিলাম যে আমার মেয়েও ভর্তি রোগী ছিল এবং কেসটা ইমারজেন্সি ছিল এবং আপনি না পারলে আমাদের বললেন না কেন যে আপনি আপনার আউটডোর রোগী না দেখে যাবেন না। এর উত্তরে তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, ”বাংলাদেশে কোন প্রফেসরই ডাকার সাথে সাথে রোগী দেখতে যান না। আপনারা বাংলাদেশে থাকেন বোঝেন না!” তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকাল কলেজের নিউরোসার্জারির বিভাগীয় প্রধান এবং একজন প্রফেসর।

ডা: মাসুদুর রহমান:

ডা: মাসুদ রহমানকে যখন আমি জিজ্ঞাসা করি আমার মেয়ের VP Shunt Operation এর পর যখন সে কোমাতে চলে যায় তার ডায়াগনসিস আপনারা কি করেছেন। কেন এই আড়াই দিনে একটা সিটি স্ক্যান ও করান নাই পোস্ট অপারেটিভ অবস্থা জানার জন্য, কেন আমাদের কোন আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেন নাই। ডা: মাসুদ রহমান উত্তর দেন তিনি আমার মেয়ে সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। আমার মেয়ের কনসালটেন্ট ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু থাকায় উনি কিছুই জানেন না।

ডা: মাসুদ রহমান PICU এর ক্রিটিকাল কেয়ার ডাক্তার, আমার মেয়ে তার তত্ত্বাবধানে PICU তে ছিল এবং আমার মেয়ের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট ও উনারই দেয়া। আরও ভয়ংকর কথা, উনার বক্তব্য অনুযায়ী এই ডিসচার্জ সার্টিফিকেট উনি অন্য ডাক্তারের অনুরোধে দিয়েছেন, এটা তার দেবার কথা ছিল না। ”The best Hospital in child health care” এর PICU এর ক্রিটিকাল কেয়ার ডাক্তার এর এই বক্তব্য। আমাকে বিস্তারিত পরে উত্তর দিবেন বলে এই অসম সাহসী চিকিৎসক তার সেল ফোন টি পরবর্তীতে বন্ধ করে দেন।

ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু:

স্কয়ার হাসপাতাল এর সাথে তার টার্ম শেষ হয়ে যাওয়ায় নিজ দেশ ভারতে প্রত্যাবর্তন করেন। পরবর্তীতে আমি স্কয়ার হাসপাতাল এবং ড: বিষ্ণুর দক্ষতা নিয়ে আমার সন্দেহ প্রকাশ করে বেশ কিছু evidential circumstances এর ব্যাখ্যা চেয়ে উনার ব্যক্তিগত ইমেইল এ চিঠি লিখি। চিঠির উত্তরে ডা: পার্থ প্রতীম বিষ্ণু চমৎকারভাবে প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তরগুলো এড়িয়ে আমাকে চিঠির উত্তর দেন।

ডা: সানোয়ার হোসেইন:

ডাইরেক্টর মেডিকেল সার্ভিসেস স্কয়ার হাসপাতাল এর পদে আসীন। উনাকে স্কয়ার হাসপাতাল এ আমার অভিজ্ঞতা এবং অভিযোগগুলো জানালাম এবং আমার যা ধারনা “স্কয়ার হাসপাতাল আমার মেয়ের চিকিৎসা দেবার মত যোগ্যতা সম্পন্ন হাসপাতাল নয় এবং তাদের ভুল চিকিৎসা চালাবার জন্য অত্যন্ত জরুরী তথ্য আমাদের কাছ থেকে গোপন করেছে” বলে অভিযোগ করলাম। আমাদের কথোপকথন এ ডা: সানোয়ার হোসেইন এই দুটি বিষয় পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেন-

১. PICU সাপোর্ট এ ventilation – এ থাকা আমার মেয়ের বয়সী কোন রোগীর সিটি স্ক্যান বা এম আর আই করবার মত কোন সেট আপ স্কয়ার এ নেই।

২. স্কয়ার এর অভিজ্ঞ নিউরোসার্জন এবং তার টিম এই অপারেশনটি করত না কারন তাদের কেউই পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জন না। স্কয়ার এর চেয়ে বেশী কিছু করতে পারত না অথবা বলা উচিৎ ছিল যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন রোগীকে সেখানে নিয়ে যান।

অভিযোগের জবাব আজ পর্যন্ত পেলাম নাঃ

আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডা: সানোয়ার হোসেইন একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বললেন। আমি ১৯ শে জানুয়ারি ২০১৪ তে “স্কয়ার হাসপাতাল এর দক্ষতা এবং আমার মেয়ের ভুল চিকিৎসার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে বেশ কিছু evidential circumstances এর ব্যাখ্যা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। ১৯ শে মার্চ আমি প্রথম রিমাইন্ডার দেই। পরবর্তীতে ১৯শে মে দ্বিতীয় রিমাইন্ডার লেটার দেই। অদ্যাবধী স্কয়ার আমাকে আমার অভিযোগ পত্রের কোন উত্তর দেয় নি। ফোনে কয়েকবার জিজ্ঞাসা করায় ডা: সানোয়ার হোসেইন জানান তিনি আমার অভিযোগের উত্তর তৈরী করে স্কয়ার এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তাদের কোন সম্মতি এখনও না পাওয়ায় আমার উত্তর দিতে পারছেন না এবং এক পর্যায়ে আমাকে বাস্তবতাটা বোঝানোর চেষ্টা করে বলেন, ”বুঝতেই পারছেন এটা একটা প্রাইভেট হসপিটাল, আপনি এবং আমি দুজনেই দুজনের অবস্থা বুঝতে পারছি”।

ভুল চিকিৎসার শেষ হয় নাঃ

পরবর্তীতে আমার মেয়ের চিকিৎসা Samitivej Hospital এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দেশে অহনার জন্যে একজন Attending Doctor খোঁজ করতে গিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল এর শরণাপন্ন হই। সেখানে ডা: ফেরদৌস শাহরিয়ার(oncologist) এর সাথে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমরা দেশে পৌঁছাবার আগে থেকেই অহনার কেস হিস্ট্রি সহ একাধিক বার আলোচনা করা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে অহনাকে অব্জারভেশন এর জন্যে ১৪ই ডিসেম্বর ইউনাইটেড হাসপাতাল এ ভর্তি করি। ১৫ই ডিসেম্বর ওকে ডিসচার্জ করা হয়। ওরা ডা: সান্তনু সহ ৭জন স্পেশালিস্ট নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করেন। ওদের সুবিধার্থে বিগত ৮ মাসের সমস্ত মেডিকেল ডকুমেন্ট এবং এম আর আই এবং সিটি স্ক্যান এর ৮টির ও বেশি সেশন এর সিডি দেয়া হয়। ঘটনা প্রবাহে আমার জোড়ালো বিশ^াস হয় যে বোর্ডের স্পেশালিস্টদের মধ্যে ডা: শাহরিয়ার সহ ২ জনের বেশী কেউ এই ডকুমেন্টগুলো দেখেন নাই। পুরো বোর্ড মিলে আমার সম্মুখেই আমার মেয়েকে প্রথমবারের মত দেখেন। ছোট একটি উদাহরন দেই, আমি যখন ডাক্তারদের সাথে মিটিং এর পর ডকুমেন্টগুলো ডিউটি ডাক্তারকে হস্তান্তর করতে যাই তখন উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এম আর আই এবং সিটি স্ক্যান গুলোর প্লেটগুলো এনেছি কিনা। সংগত কারনেই আমি খুব আশ্বস্ত হতে পারলাম না। অথচ একদিনে আমি বিল দেই ৫৭,০০০ টাকা, যার মধ্যে শুধুমাত্র কনসালটেন্টদের বিল ছিল ২৭,০০০ টাকা।

পরবর্তীতে পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট খোঁজ করতে করতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল এ ডা: আনিসা জাহান এর কাছে অহনাকে দেখাই। কেস হিস্ট্রি দেখে শুনে তিনি ডা: আবু শামীম এবং বিশেষত ডা: নওশাদ উন নবীর কড়া সমালোচনা করলেন। পর্যালোচনা করে একটা নতুন ঔষধ বাড়ালেন এবং চলমান ঔষধের একটা (Depakin 200mg/ml) অহনার ওজনের সাথে সংগতি রেখে অনেক কম দেয়া হচ্ছে বলে ১.২ মি:লি: x ২ থেকে ৩.৫ মি:লি: x ২ তে বাড়াতে বললেন।

এরই মধ্যে হঠাৎ অহনার ঠান্ডা লেগে যাওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে প্রফ: ডা: মিজানুর রহমান কে সেন্ট্রাল হাসপাতাল এ ১লা জুন রাত সাড়ে ১১টায় দেখাই। ডা: মিজানুর রহমানই প্রথম ১৪ আগস্ট ২০১৩ তে ল্যাব এইড এ Tumor removal and VP shunt operation এর জন্য এডভাইস করেন। তিনি অহনাকে দেখে ডা: আনিসা জাহান প্রদত্ত ঔষধটি বাদ দিয়ে অন্য আরেকটি ঔষধ দেন। এবং একইভাবে Depakin 200mg/ml ক্রমান্বয়ে আরও বাড়ানো যেতে পারে বলে তিনি ৭.৫ মি:লি: x ২ পর্যন্ত প্রেস্ক্রাইব করেন।

প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী Depakin 200mg/ml আমরা ৫ মি:লি: x ২ পর্যন্ত উন্নীত করি। এই সিরাপ টি Bankok থেকে ৪ মাসের হিসাবে নিয়ে আসা হয়েছিল। ডোজ বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই দেড় মাসের মাথায় ঔষধ শেষ হয়ে যায়। একই ঔষধ না পেয়ে স্থানীয় ঔষধ Epilim নিয়ে আসি। ঔষধ দেয়ার আগে একই ঔষধ কিনা তা নিশ্চিত করতে গিয়ে দেখি Epilim হচ্ছে ২০০ মি:গ্রা:/৫মি:লি: আর Depakin হচ্ছে ২০০ মি:গ্রা:/মি:লি। তার অর্থ হল Depakin টা Epilim এর চেয়ে ৫ গুন বেশী শক্তিশালী। আমরা কোথাও বুঝতে ভুল করেছি কিনা তা নিশ্চিত করবার জন্যে ডা: আনিসা জাহান এবং ডা: মিজানুর রহমান দুজনেরই প্রেসক্রিপশন খুলে দেখলাম, দুজনের প্রেসক্রিপশন এই স্পষ্টভাবে লেখা Depakin । Depakin কোন স্থানীয় ঔষধ নয় অথচ দুজন স্পেশালিস্টই স্থানীয় ঔষধ এর strength অনুযায়ী বাহিরের ঔষধ প্রেস্ক্রাইব করলেন। যেখানে স্পষ্টভাবে অহনার প্রেসক্রিপশন এ Depakin এর ডোজ এবং strength উল্লেখ করা ছিল। মাঝখান থেকে দেড় মাস অহনাকে ৫ গুন বেশী ডোজে ঔষধ খাওয়ানো হল

পপুলার হসপিটাল (যদিও আমাদের ব্যবসাটা হোল না)ঃ

অহনার VP Shunt এর সেটিং পরিবর্তন করা এবং ওর ব্রেইন এবং পুরো স্পাইন এর এম আর আই করা সম্ভব কিনা জানার জন্য আমরা শরণাপন্ন হই ডাঃ কনক কান্তি বড়ুয়ার। তিনি আমাদের জানালেন এই VP Shunt এর সেটিং পরিবর্তন করা আমাদের এখানে সম্ভব না। এম আর আই এর পদ্ধতিগত জতিলতার কথা শূনে তিনি পরদিন পপুলার এর রেডিওলোজী এর প্রধান এর সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিলেন। আমার কেসটা শূনেই তিনি বার বার আমাকে কাউনটার এ যোগাযোগ করতে বললেন। এক পর্যায়ে বললাম আমি জানতে এসেছি উনারা আদৌ এই টেস্টটা করতে পারবেন কিনা? তিনি তখন আর একজন রেডিওলজিস্টকে রেফার করলেন। তিনি সব শূনে বললেন “যদিও আমাদের ব্যবসাটা হবেনা তারপরেও বলছি আমাদের এখানে এই সেটাপটা নাই”।

আমি সারা শহর খুঁজে বেড়াচ্ছি কোথায় আমার মেয়ের এই অতি প্রয়োজনীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ টেস্টটি নিশ্চিন্ত ভাবে সম্পন্ন করতে পারি, আর সবাই ওঁত পেতে আছে ব্যবসা ধরার জন্য।

ইউনাইটেড হসপিটাল, ভুলের শেষ কোথায়?

অহনার রুটিন চেকআপ মার্চের শুরুতে ব্যাংকক এ করানো হয়। ব্যাংকক এ চেকআপ করানো বেশ ব্যয়বহুল এবং অহনার জন্য ভ্রমণটা বেশ জটিল হওয়াতে শুরু থেকেই আমরা দেশে এই টেস্টগুলো করানো যায় কিনা তার খোঁজ করতে থাকি। উদ্দেশ্য ছিল টেস্টগুলো দেশে করালে প্রথমত, অপেক্ষাকৃত কম খরচে করানো যায় এবং দ্বিতীয়ত, রিপোর্টগুলো ব্যাংকক এ পাঠিয়ে অহনার যাতায়াত প্রয়োজন অনুসারে কমানো যায়। দুর্ভাগ্যবশত অহনার VP Shunt এর সেটিং পরিবর্তন করা এ দেশে সম্ভব নয় বলে বিভিন্ন নিউরোসার্জনদের সাথে কথা বলে এবং বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। ওর এম আর আই করতে প্রায় সাড়ে তিন থেকে ৪ ঘন্টা প্রয়োজন হয় এবং তা তাকে জিএ( জেনারেল এনেস্তেশিয়া) দিয়ে করানো হয়।

বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলার পর ইউনাইটেড হাসপাতাল এর ডা: জান মোহাম্মদ (রেডিওলোজীর বিভাগীয় প্রধান) উপরিউক্ত পদ্ধতি জটিলতা বিচার্যে অহনার এম আর আই চেকআপ ইউনাইটেড হাসপাতাল এ করাতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

আল্লাহ্‌র রহমতে ৩০ শে জুন ২০১৪ অহনার এম আর আই করানো হয়। পরবর্তীতে ৩ জুলাই রিপোর্ট নিয়ে প্রফ: ডা: শান্তনু চৌধুরী (radiation oncology) এবং ডা: পল টি হেনরি (consultant neurosurgery) এর সাথে আমরা অহনা সহ দেখা করি। ডা: জান মহাম্মদ এবং উভয় কনসাল্টেন্ট আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে অহনার নতুন কোন টিউমার গ্রোথ নাই এবং ব্রেইন এর অবস্থা অপরিবর্তিত। ক্লিনিকালি সে ভাল আছে।

আমরা আশ্বস্ত হই নতুন কোন গ্রোথ নাই শুনে। এম আর আই এর সফট কপিটা সিডি আকারে পরবর্তীতে ব্যাংকক এ সামিতিভেজ শ্রীনাকারিন চিলড্রেন হসপিটাল এ রিভিউ এর জন্য ওর ডাক্তারের কাছে পাঠাই। ১৯ জুলাই অহনার ডাক্তার পুরো টিমের সাথে রিভিউ এর পর রিপোর্ট পাঠান। যাতে ওরা স্পষ্টভাবে ইমেজ এ হাইলাইট করে দেখান অহনার ব্রেইনের নতুন গ্রোথ এবং সেই সাথে তাদের পরামর্শ। অথচ রেডিওলোজী ডিপার্টমেন্ট ছাড়াও আরও দুজন স্পেশালিস্টকে দেখানোর পরও যে উদ্দেশ্যে এই কষ্টসাধ্য চেকআপ করানো তার সঠিক রিপোর্ট ইউনাইটেড হাসপাতাল দিতে পারেনি। যদি আমরা রিপোর্টটি রিভিউ না করাতাম তাহলে মিথ্যা আশ্বাস এর উপর আমাদের আবারো ভুল পথে চলতে হোতো।

আমার উপলব্ধিঃ

আমার মেয়ের এই ঘটনাসমূহ যখন আমি লিপিবদ্ধ করি, তখন পুরো লেখাটা পড়ে আমারই মনে হয় যে এই লেখাটা চিকিৎসক ও আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগপত্র। আমার মত ভুক্তভোগি যারা আছেন প্রায় তাদের সবার মতই এটা একটা একতরফা অভিযোগ বা মানসিক ও মানবিক বিপর্যস্ত কোন পিতা/অভিভাবকের ভিত্তিহীন বিরুদ্ধচারণ হয়ে গেল কিনা সেটা যাচাই করার জন্য আমি আমার এবং আমার পরিচিত জনদের এই বিষয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর যারা চিকিৎসা সেবা/চিকিৎসকদের সাথে জড়িত কোড অফ কন্ডাক্ট, পলিসি ইত্যাদি নিয়ে কিছুটা সময় ব্যয় করি। আমার উদ্দেশ্য ছিল আমার অভিযোগগুলো আসলেই ভিত্তিহীন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া এবং এই অভিযোগগুলোর কোন প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করা।

সোভিয়েত রাশিয়াতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পড়াশুনার দীর্ঘ ৭ বছর অবস্থানকালীন চিকিৎসা সেবা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা, আমার স্ত্রীর পড়াশুনার সুবাদে নরওয়ের চিকিৎসা সেবার অভিজ্ঞতা, আমার প্রথম সন্তান হওয়ার সুবাদে যুক্তরাজ্যের’র অভিজ্ঞতা, আমার বাবার হার্টের চিকিৎসা সুবাদে ভারতের অভিজ্ঞতা, আমার মেয়ের চিকিৎসা সুবাদে থাইল্যান্ডের এর অভিজ্ঞতা যেগুলোকে আমার একেবারে নিজস্ব অভিজ্ঞতা বলতে পারি এবং বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা সমূহ খুব নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করি। সর্বপরি ইন্টারনেট এর সাহায্যে একজন আদর্শ চিকিৎসকের দায়িত্ব ও কর্তব্যের সামাজিক/প্রাতিষ্ঠানিক রূপ কেমন হওয়া উচিৎ সে সম্পর্কে জানতে গিয়ে General Medical Council UK এবং World Medical Association এর পক্ষে তৈরী করা ”Hipocratic Oath” সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি যা কিনা খ্রীষ্টপূর্ব ৪০০ বছর পূর্বে চিকিৎসক পেশাজীবিদের “কোড অফ কন্ডাক্ট” হিসেবে রচিত হয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে “Hipocratic Oath” এর আধুনিক সংকোলন চিকিৎসকদের “কোড অফ কন্ডাক্ট এর বাইবেল হিসেবে পরিগনিত হয়।

হয়তোবা, ঠিক সময় মত ডায়াগনোসিস এবং সঠিক চিকিৎসা হবার পরও অহনার পূর্ণ রিকভারি হোতো না। আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার অনগ্রসরতা, সমকালীন মেডিক্যাল টেকনোলজির এবং তা ব্যবহারে পারদর্শী লোকবলের অপ্রতুলতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে আমরা সর্বোত্তম চিকিৎসা আশা নাই করতে পারি। কিন্তু আমার মেয়ের চিকিৎসকদের মাঝে যার অভাব ভীষণ ভাবে অনুভব করেছি তা হচ্ছে সঠিক প্রচেষ্টা, স্বদিচ্ছা এবং দায়িত্ব পালন। এবং এই যে অপরিপূর্ণতা পেশাগত উৎকর্ষতার- সেটা পরিপূর্ণ অনুশোচনা হীনতায়।

আমি আমার অভিজ্ঞতা, Hipocratic Oath, নিজস্ব বিচারবুদ্ধি এবং বোধ এর মাধ্যমে অহনার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ আছে সেগুলো বিশ্লেষন পূর্বক নিম্নরূপে লিপিবদ্ধ করি। এই বিশ্লেষনটি একান্তই আমার নিজস্ব যা ঘটনাসমূহের দালিলিক প্রমানাদির ভিত্তিতে প্রণীত।

চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের ভুল ত্রুটি এবং গাফিলতির সারসংক্ষেপঃ

আল-হেলাল স্পেশালাইজড হাসপাতালঃ

• ডা. আবু শামীম :
আধুনিক পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব।
কর্মদক্ষতার বাইরে কাজ করা।
রোগীর অভিভাবকদের উদ্বেগ ও অগ্রধিকারকে গ্রাহ্য না করা।

ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালঃ

• ডা. নওশাদ উন নবী :

আধুনিক পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব।
কর্মদক্ষতার বাইরে কাজ করা।
রোগীর অভিভাবকদের উদ্বেগ ও অগ্রধিকারকে গ্রাহ্য না করা।
সদুপদেশ দাওয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি, কর্মক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট এবং রোগীর ভালোর জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা অবলম্বন করেন নি।
তিনি রোগীকে ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল- এ নিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন যেখানে রোগীর চিকিৎসা অনুপযুক্ত ছিল।
রোগীর ডায়াগনসিস পরবর্তী চিকিৎসাটি যার ব্যবস্থাপনা সেখানে সম্ভব নয়, রোগীর অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল এবং সঠিক উপদেশও দেয়া হয়নি। তিনি সেই হাসপাতালেই চিকিৎসা অনুশীলন করেন কিন্তু সেই হাসপাতালের সক্ষমতা ও সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে তিনি অনবগত ছিলেন না এরূপ ভাবার কোন অবকাশ নেই।
দেশের বাইরে স্থানান্তর এর ব্যাপারে তিনি তার একজন পরিচিত বন্ধুকে সুপারিশ করেন যিনি তাঁর ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে অতিরিক্ত অনেক সময় নষ্ট করেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপে পরিনত হয়।

• ডা. জিল্লুর রহমান :

তিনি রোগীকে তার সর্বাধিক গুরুত্ব দেন নি। তার একজন সহকর্মী নিউরোসার্জন তাকে রোগীর পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ন বিবরন দিয়ে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেবার নির্দেশনা দেন। তিনি ৩ তলা পার করে রোগীকে দেখতে আসতে ৪.৩০ ঘন্টা সময় নষ্ট করেন। তিনি ১১.৩০ এর দিকে রোগীকে PICU এর সুব্যবস্থা সম্বলিত কোন হাসপাতালে বদলি করার উপদেশ দেন যেখানে তার সেই সহকর্মী নিউরোসার্জন অবিলম্বে রোগীর টিউমার অপসরন সহ VP Shunt অপারেশন করার নির্দেশনা দেন।

তিনি রোগীকে মৃত্যূর মুখে ঠেলে দেন এবং এই কর্মের সাফাই স্বরূপ তিনি নিজেকে একজন প্রফেসর হিসেবে দাবী করেন এবং বলেন যে বাংলাদেশে কোন প্রফেসরই তৎক্ষনাৎ কারো অনুরোধে রোগী দেখতে যান না ??

স্কয়ার হাসপাত্পাতালঃ

ডা. মামুন :

রোগীকে অপারেশনের নির্দেশনা থাকা সত্বেও তাকে বাঁচানোর জন্য তাৎক্ষনিক কোন উদ্যোগ নেন নি।
তিনি রোগীর অভিভাবকসহ অন্যান্য ডাক্তারদের উপদেশকে অগ্রাহ্য করেন। রোগীকে সার্জারির পূর্বে দীর্ঘ ৯ ঘন্টা PICU তে রাখা হয়।
তিনি রোগীর অভিভাবকদের সাথে সহানুভুতিশীল আচরন ও সঠিক ব্যবহার প্রদর্শন করেন নি।
রোগীর কোন প্রকার উদ্বেগের প্রতি সহানুভুতি প্রদর্শন করেন নি।
রোগীর অভিভাবকদের কাছে তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে ও ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেন নি।
সৎ, প্রকাশ্যে ও ন্যয়পরায়নতার সাথে কার্য সম্পাদন করেন নি।

• ডা. পার্থ প্রতীম বিষ্ণু :

রোগীর অভিভাবকদের উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করেন। পরিস্থিতির সঠিক ব্যাখ্যা দেন নি বরং অশোভন আচরন করেন।
ডাক্তারদের গোজামিল/ গরমিল ও দোষগুলোকে গোপন করার চেষ্টা করেন।
কর্মদক্ষতার বাইরে কাজ করেছেন।
রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনে অন্য নিউরোসার্জন এর অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে অভিভাবকদের পরামর্শ গ্রহণে অস্বীকার করেন।

• ডা. মাসুদুর রহমান :

কর্মদক্ষতার বাইরে কাজ করেছেন।
রোগীর আসল পরিস্থিতিকে গোপন করার চেষ্টা করেন।
রোগীর অবস্থা না জেনেই রোগীকে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

• ডা. সানোয়ার হোসেইন :

তিনি রোগীর ভুল চিকিৎসা/ পরিচর্যার বিষয়ে এবং লিখিত অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতেও রোগীর অভিভাবকদেরকে কোন সদউত্তর দেন নি উপরন্তু সময় ব্যয় করছেন।
তাছাড়াও অভিভাবকদের সাথে যতটুকু সদাচরন করা প্রয়োজন তা তিনি প্রদর্শন করেন নি।

• PICU এর জনৈক কনিষ্ঠ ডাক্তার :

অদক্ষ ও কর্মদক্ষতার বাইরে কাজ করা।
তিনি পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জন এবং নিউরোসার্জন এর মধ্যে পার্থক্য জানেন না।
এ ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সময় রোগীদের অভিভাবকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন যা তাদের মনবল আরও নাজুক করে তুলে।

• স্কয়ার হাসপাতাল এর PICU ডাক্তার টিম:

রোগীর আসল পরিস্থিতিকে গোপন করার চেষ্টা করেন।
ইউনাইটেড হাসপাতালঃ
পেশাগত দক্ষতা এবং সমন্বয় এর অভাব।
রোগীকে কোয়ালিটি টাইম দেয়ার মানসিকতার অভাব।
সময়োপযোগী ইকুইপমেন্ট এবং টেকনোলজি এর ব্যবহার করার দক্ষতার অভাব।

ইউনাইটেড হসপিটালঃ

• ডাঃ জান মোহাম্মদ, ডাঃ শান্তনু চৌধুরী, ডাঃ পল টি হেনরিঃ

পেশাগত দক্ষতা এবং নিরীক্ষণ জ্ঞান এর অভাব।
রোগীকে কোয়ালিটি টাইম দেয়ার মানসিকতার অভাব।
যে কারণে এত ঝুঁকিপূর্ণ এম আর আই টেস্ট করা হল, নতুন কোন গ্রোথ আছে কিনা। তাঁরা রিপোর্ট দিলেন কোন নতুন গ্রোথ নাই। আমরা যদি এই রিপোর্টটা রিভিউ না করাতাম তা হলে অন্ধকারে থেকেই আবারও ভুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতাম।
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালঃ

• ডাঃ আনিসা জাহানঃ

পেশাগত নিরীক্ষণ জ্ঞান এর অভাব।
রোগীকে কোয়ালিটি টাইম দেয়ার মানসিকতার অভাব।

সেন্ট্রাল হাসপাতালঃ

• ডাঃ মিজানুর রহমানঃ

পেশাগত নিরীক্ষণ জ্ঞান এর অভাব।
রোগীকে কোয়ালিটি টাইম দেয়ার মানসিকতার অভাব।
এত এত ভুলের মাঝে দিয়ে পথ চলতে গিয়ে আমি ভাবি এটা কি শুধুই আমার মেয়ের বা আমারই দুর্ভাগ্য, নাকি চারিদিকে সব এরকমই ঘটছে ?? এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

288 comments

Leave a Reply